পোস্টগুলি

জুন, ২০২১ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

স্মৃতির সরণী বেয়ে

 জীবনখাতার পাতা থেকে । পর্ব ১             ( স্বর্গীয় শ্রীযুক্তা অর্চনা সেনগুপ্ত স্মরণে)       জীবনটা ঠিক একটা ক্যানভাসের মতো। সময়ের সাথে সাথে তাতে কত রঙ, কত আলো, কত ছায়া প্রতিনিয়ত পালাবদল করে। কোনো রং গাঢ় হয়, চেতনার গায়ে আঁচড় কাটে। আবার কোনো রং চিরদিন থাকে নেপথ্য প্রেক্ষাপটে, কিন্তু হালকা হয়ে। এই যে আজ এটুকু বুঝতে পেরেছি ,ছোটোবেলা কি অতটা বুঝতে পারতাম? কিন্তু জীবনের ক্যানভাসে এই রঙ তুলির খেলা শুরু হয়ে যায় শৈশব থেকেই।                  কিছু কিছু মানুষ আমাদের শৈশব এবং তারপর আমাদের বড় হওয়ায় অনেকটা জুড়ে থাকলেও আমরা অনেক সময় তাদের এই কৃতিত্বপর্ব টা প্রায় ভুলে থাকি কিংবা সেটা তো আমাদের প্রাপ্তি ছিল এই ভেবে অযত্নে ফেলে রাখি। আমি ঠিক তাই করেছি এতদিন। কিন্তু যত বড় হয়েছি খুব কাছ থেকে দেখা এই একটা মানুষকে নিয়ে লেখার ইচ্ছেটা প্রবল হয়ে উঠেছে। তিনি আমার ঠাম্মা শ্রীযুক্তা অর্চ্চনা সেনগুপ্তা (নামটা তিনি যেভাবে সাক্ষর করতেন, সেভাবেই লিখলাম)।         মনে হতেই পারে,নি...

অণুগল্প

   শিরোনাম -দ্বীপান্তর কলমে - ড. মধুমিতা সেনগুপ্ত           'কী মিঞা,কেমন কাটছে এই সোনাদ্বীপে আইয়া'?আমিনুল হাসিমুখে আব্বাসের দিকে তাকায় আর বলে-'ভালোই তো৷জীবনে কয়বার দ্যাশবদল করলাম বলোতো আব্বাসভাই৷দ্যাশ স্বাধীন হওয়ার লগে লগে বাপজানরা জানল, তারা আর ভারতবর্ষের না,পাকিস্তানের৷তারপর বাংলাদ্যাশের  মুক্তিযুদ্ধের সময় বাপজানের আমাদের ভাইবোনদের লইয়া আসামে আসা৷আর আজ এতবছর পর আসামে আমরা আবার বিদেশী৷"  আব্বাসউদ্দিনও দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলে,'আমাদেরও তো এককালে কাগজপত্তর সবকিছুই আছিল৷ঘরে আগুন লাইগ্যা সমস্তকিছুই গেল৷নেহাত নদীর উপর ভাসমান এই অজানা দ্বীপডা আমাদের বাঁচিয়ে দিল৷"   আমিনুল একটা বিড়ি ধরায়৷চিন্তিতমুখে বলে,"'কিন্তু আর কদ্দিন,খোরাকী যা নিয়া আইছলাম,সে তো একদিন শেষ হইব৷' দুপুর গড়িয়ে যায়৷ আব্বাস এবার ওঠে৷ যাবার সময় আমিনুলের হাত ধরে বলে,'সে তুমি চিন্তা কইর না মিয়া,আল্লা মেহেরবান থাকলে এই সোনাদ্বীপও একদিন চাষ ফলব৷যাও ওঠ,ঘরে গিয়া ভাত খাও৷' ঘরে সায়রা শুটকীপোড়া আর পান্তাভাত নিয়ে আমিনুলের অপেক্ষায়৷ আমিনুল স্বপ্ন দ্যাখে,এখানে চিরতরে থেকে যাবার৷কিন্তু স...