পোস্টগুলি

অ' জুবিন দা...

 অ' জুবিন দা... লাল চন্দন কাঠের চিতায় চড়ে তুমি চলে গেলে জুবিন'দা। পৃথিবীর ইতিহাসে একটি উজ্জ্বল সাক্ষর রেখে গেলে। আজ বিশ্ববাসীকে সাক্ষী রেখে তুমি অনন্তধামের পথে। এই কদিন নীরব চেয়ে থাকা আর অশ্রু ঝরানো ছাড়া কিছু করার ছিলনা কারোর। তোমার অপার্থিব শরীরের পাশে দাঁড়িয়ে হাজার হাজার কন্ঠে 'অ জুবিন দা,জুবিন দা,' বলে আহ্বান এক পরম শক্তিশালী যুগপুরুষকে চিহ্নিত করেছে। জুবিন দা, অন্ধকার না হলে, আলোর মর্ম আমরা কোনোদিন বুঝিনি, বুঝবোও না। তোমার চলে যাওয়া তাই প্রমাণ করল, মানুষের মনে তোমার কী ভীষণ ভাবে বেঁচে থাকা। এই জন্মে তো অনেক আন্দোলন দেখলাম,কত প্রতিবাদ, কত দেশ দশের কত ভাঙা গড়া। কিন্তু এই মহাযাত্রা জন্ম জন্মান্তরেও ভুলবোনা। একাধারে গায়ক, সুরকার,গীতিকার, অভিনেতা, চলচ্চিত্রকার এই মানুষটির এভাবে চলে যাওয়া আমরা মেনে নিতে পারিনি। আমরা একে অন্যকে জড়িয়ে কেঁদেছি, শুধু কাউকে কিছু না বলে চলে গেলে বলে নয়। কেঁদেছি আমাদের অসীম ব্যর্থতায়, তোমাকে আমরা ধরে রাখতে পারিনি বলে। প্রতিটি সম্পর্ক বেঁচে থাকে যত্নে। একটুখানি যত্ন পেলে এই ভাঙনের পৃথিবীতেও আশ্চর্য এক মায়ায় মানুষ আটকে যায়। না, আম...

জুবিন ও কিছু কথা

 ‘রৈ রৈ বিনালে’ ও কিছু কথা "প্রতি শৰতৰ প্রভাতী ফুলে, কব তোমাকেই মোৰ কথা/প্রতি মেঘালী নিশা জোনে কব তোমাকেই মোৰ ব্যথা।" আদ্যোপান্ত একটি প্রেমের গান। কিন্তু গায়কের মৃত্যুর পর এই গানটি এক অন্য মোহনায় পাড়ি দিল। ঠিক যেমন নদী এসে সাগরে মিশে যায়। এক ব্যক্তি অনুভব যেন সমষ্টির অনুভবে পরিণত হলো। আমরা আজও জানিনা কী আছে গানটিতে। প্রতিটি শব্দে, প্রতিটি তাল, লয়, সুরে যেন শিল্পী তার অকথিত, অলিখিত কিছু ব্যথা কষ্ট ছড়িয়ে গেছেন। আর ঠিক এমনটাই অনুভব- তার সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি 'ৰৈ ৰৈ বিনালে' দেখার পর।           ছবিটির গল্প,কিংবা চরিত্র আমাদের খুব পরিচিত। ঠিক একই রকম বিষয় নিয়ে হয়তো নানা ভাষায় অসংখ্য ছবি তৈরি হয়েছে এদেশে। কাহিনির দিক থেকে দেখতে গেলে, পুরোপুরি গোলাকার একটি মিস্টি প্ৰেমের গল্প। ক্লাইম্যাক্সও দুর্বল। চরিত্র নির্মাণ এবং সংলাপও তেমন উচ্চ পর্যায়ের নয়। সবমিলিয়ে সাধারণ একটি প্রেমের গল্প। প্রেমের পরিণতিতেই ছবির সুখসমাপ্তি।         কিন্তু ছবিটির অন্তরালে যেন অন্য এক গল্প লেখা হলো। একজন অন্ধ গায়ক। যার কাছে এই রঙীন পৃথিবীর কোনও অর্থ ন...

কথা

 #কিছু। কিছু কথা  কাছের মানুষের কাছে দুঃখ,কষ্ট,ব্যথা যাই পাইনা কেন কাউকে না কাউকে বলে আমরা হালকা হতে চাই। তারপর দুঃখগুলো অন্যকে বিলিয়ে দিয়ে নিজেরা ভারমুক্ত হয়ে আনন্দে মেতে থাকি। তারপর একই মানুষের কাছে আবার একদিন কষ্ট পাই। আবার কাঁদি,আবার দুঃখ বিলিয়ে দিতে বসি। জানেন তো শস্তা জিনিস আমরা সহজে বিলিয়ে দিতে জানি। বিলিয়ে দিয়ে আপদ বিদেয় হলো ভাবি। ভেবে দেখুন তো,কষ্ট পাওয়ার এই পুনরাবৃত্তি বারবার কেন ঘটে? কেননা পূর্ববর্তী দুঃখ থেকে আমরা কোনও শিক্ষা নিইনি। অন্যের ঘাড়ে ভুত ঝেড়ে পিঠ ফিরে শুয়েছি।                  সুন্দর এই পৃথিবীতে বেঁচে থাকার এবং নিজেকে ভালোবেসে বেঁচে থাকার অধিকার আমার,আপনার,সকলের। আমাদের প্রতিটি হাসি-কান্না আমাদের জীবনকে শুধু সমৃদ্ধই করেনা,আমাদের পরিণতও করে। আমার চোখের জল,আমার বুকের ভেতরে চিনচিন করা প্রতিটি রেখাপাত আমার নিজের কাছে দামী তো? এই প্রশ্নটা নিজেকে করে দেখবেন। যদি তাই হয়,তবে লোক ডেকে, বাজনা বাজিয়ে,সেই হীরের মতো দামী অশ্রুকণার ভাগ দিতে বসবো না কাউকে।             তবে কী করবো? ব...

বাড়ি তো সেই একটাই

 #বাড়ি তো সেই একটাই# ক্লাস টু থেকে বাড়ির বাইরে আরেকটি বাড়ি হয়েছিল আমাদের । আমাদের মানে আমাদের পাঁচ ভাই বোনের। কোনটাকে বাড়ি বলে কোনটাকে বাসা বলে বুঝিনি তখনও। অনেক পরে বুঝেছি, কোনোটাই আসলে বাড়ি ছিলনা। তবুও চাবাগানের কোয়ার্টার টা যেন বাড়িই ছিল। অনেক বছরের সাধে- আহ্লাদে, স্বপ্নে-দীর্ঘশ্বাসে হলদেটে হয়ে যাওয়া বাড়ি। সজনে গাছ, পেয়ারা গাছ, বেল গাছ, আম-কাঁঠাল গাছের ছায়ায় বিশ্বস্ত একটি নিশ্চিন্দিপুর। শান্তি ছিল, আনন্দ ছিল। ছিলেন পরিজন।  তবুও সব ছেড়ে পাড়ি দিতে হলো এক বড় আকাশের খোঁজে।            ক্লাস টুর নতুন স্কুল। চাবাগানের স্কুল থেকে শহরের এল. পি স্কুলে ভর্তি। পাঁচ কিলোমিটার রোজ আসা যাওয়া সম্ভব নয়। তাই মা অফিসে কোয়ার্টার এ্যাপ্লাই করলেন। শহরে আর একটি কোয়ার্টার হলো, ভাই বোন আর মায়ের জন্য। কিন্তু হলে কী হবে। শনি রবি হলেই ব্যাগ গুছিয়ে, চাবাগানের পথ ধরে যাওয়া কোনো এক না দেখা মফস্বলের নাকওয়ালা বাসে উঠে বসতাম সবাই। দাদু ঠাকুমা পথ চেয়ে থাকতেন কখন পৌছুবো। বাস থেকে নেমেই হ্যান্ডিম্যানের হাতে আট আনা পয়সা গুজে দিয়ে সোজা বাড়ির পথ।  ...
 #সালতামামি# অনেকেই অভিযোগ করে থাকেন,'ছোটোরা আর বড়োদের আজকাল সম্মান করছে না । কিংবা দেখলে উঠে দাঁড়াচ্ছে না। হাসি বিনিময় অব্দি করছে না । কোথাও দেখা হলে চেয়ার ছেড়ে বসতে দিচ্ছে না ।এই প্রজন্মটাই বড়োদের রেস্পেক্ট দিতে জানে না'।                      বলি Respect দিতে জানাটা 'In Born' কোনো কোয়ালিটি নয়। ওটা শিখে নিতে হয়। এছাড়া এটা কোনো উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া চরিত্রগুণও নয়। বাড়িতে যদি বড়োদের তাঁদের বড়োদের সম্মান করতে দেখি, তবেই আমরা কিছুটা হলেও এই গুণটি গ্রহণ করতে শিখি। বাকিটা বোধ-বুদ্ধি হবার পর নিজস্ব বিচারে যাঁকে সম্মান করতে ইচ্ছা হয়,তাঁকেই সম্মান করি। ভালোবাসার মতো সম্মানও একটি অর্জিত বস্তু। বড়োদের সম্মান করা বলতে আসলে কী বুঝি? শুধুমাত্র বয়সে কয়েকবছর পরে আসার গুণেই বুঝি বড়োদের সম্মান করা বাধ্যতামূলক? তা নয়।  'সম্মান', 'ভালোবাসা', 'শ্রদ্ধা', এই শব্দগুলো আসলে  পারস্পরিক গুণে টিকে থাকা শব্দ। এ ছাড়া যে কোন সম্পর্ককে দীর্ঘমেয়াদি টিকিয়ে রাখার একটাই মন্ত্র সম্পর্কের মধ্যে অনেকটা বাতাস ভরে দেওয়া। ছোট-বড় ...

স্মৃতির সরণী বেয়ে

 জীবনখাতার পাতা থেকে । পর্ব ১             ( স্বর্গীয় শ্রীযুক্তা অর্চনা সেনগুপ্ত স্মরণে)       জীবনটা ঠিক একটা ক্যানভাসের মতো। সময়ের সাথে সাথে তাতে কত রঙ, কত আলো, কত ছায়া প্রতিনিয়ত পালাবদল করে। কোনো রং গাঢ় হয়, চেতনার গায়ে আঁচড় কাটে। আবার কোনো রং চিরদিন থাকে নেপথ্য প্রেক্ষাপটে, কিন্তু হালকা হয়ে। এই যে আজ এটুকু বুঝতে পেরেছি ,ছোটোবেলা কি অতটা বুঝতে পারতাম? কিন্তু জীবনের ক্যানভাসে এই রঙ তুলির খেলা শুরু হয়ে যায় শৈশব থেকেই।                  কিছু কিছু মানুষ আমাদের শৈশব এবং তারপর আমাদের বড় হওয়ায় অনেকটা জুড়ে থাকলেও আমরা অনেক সময় তাদের এই কৃতিত্বপর্ব টা প্রায় ভুলে থাকি কিংবা সেটা তো আমাদের প্রাপ্তি ছিল এই ভেবে অযত্নে ফেলে রাখি। আমি ঠিক তাই করেছি এতদিন। কিন্তু যত বড় হয়েছি খুব কাছ থেকে দেখা এই একটা মানুষকে নিয়ে লেখার ইচ্ছেটা প্রবল হয়ে উঠেছে। তিনি আমার ঠাম্মা শ্রীযুক্তা অর্চ্চনা সেনগুপ্তা (নামটা তিনি যেভাবে সাক্ষর করতেন, সেভাবেই লিখলাম)।         মনে হতেই পারে,নি...

অণুগল্প

   শিরোনাম -দ্বীপান্তর কলমে - ড. মধুমিতা সেনগুপ্ত           'কী মিঞা,কেমন কাটছে এই সোনাদ্বীপে আইয়া'?আমিনুল হাসিমুখে আব্বাসের দিকে তাকায় আর বলে-'ভালোই তো৷জীবনে কয়বার দ্যাশবদল করলাম বলোতো আব্বাসভাই৷দ্যাশ স্বাধীন হওয়ার লগে লগে বাপজানরা জানল, তারা আর ভারতবর্ষের না,পাকিস্তানের৷তারপর বাংলাদ্যাশের  মুক্তিযুদ্ধের সময় বাপজানের আমাদের ভাইবোনদের লইয়া আসামে আসা৷আর আজ এতবছর পর আসামে আমরা আবার বিদেশী৷"  আব্বাসউদ্দিনও দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলে,'আমাদেরও তো এককালে কাগজপত্তর সবকিছুই আছিল৷ঘরে আগুন লাইগ্যা সমস্তকিছুই গেল৷নেহাত নদীর উপর ভাসমান এই অজানা দ্বীপডা আমাদের বাঁচিয়ে দিল৷"   আমিনুল একটা বিড়ি ধরায়৷চিন্তিতমুখে বলে,"'কিন্তু আর কদ্দিন,খোরাকী যা নিয়া আইছলাম,সে তো একদিন শেষ হইব৷' দুপুর গড়িয়ে যায়৷ আব্বাস এবার ওঠে৷ যাবার সময় আমিনুলের হাত ধরে বলে,'সে তুমি চিন্তা কইর না মিয়া,আল্লা মেহেরবান থাকলে এই সোনাদ্বীপও একদিন চাষ ফলব৷যাও ওঠ,ঘরে গিয়া ভাত খাও৷' ঘরে সায়রা শুটকীপোড়া আর পান্তাভাত নিয়ে আমিনুলের অপেক্ষায়৷ আমিনুল স্বপ্ন দ্যাখে,এখানে চিরতরে থেকে যাবার৷কিন্তু স...
#দরজা#                                               #মধুমিতা_সেনগুপ্ত                                                ২ জুলাই ২০২০ সকালে ঘুম ভাঙতেই ধড়মড় করে উঠে বসে চৈতালি। কিছু কি স্বপ্ন দেখছিল সারারাত ধরে ? মনে পড়ে না । তাড়াতাড়ি মুখ ধুয়ে বসার ঘরে এসে দেখে সুমন আর ছেলে জোজো মোটামুটি রেডি হয়ে ব্রেকফাস্ট টেবিলে। সুমন টিপ্পনী কাটে 'যার বিয়ে তার হুঁশ নেই পাড়া-পড়শির ঘুম নেই'। সত্যিই তো । আজকের প্ল্যানটা তো শুধুমাত্র চৈতালির জন্যই । আজ চারদিন হলো চৈতালি বাপের বাড়ি এসেছে মুম্বই থেকে। প্রতিবারই আসে কয়েক দিনের জন্য । কিন্তু কোনোবারই বালিপুর বাগানে যাওয়া হয়না। এবার সুমন সময় বের করে নিজেই প্ল্যান করেছে। আর ঠিক যাওয়ার দিনই  এতটা ঘুমিয়ে সময় নষ্ট করে দিলো নিজেই। আসলে বাপের বাড়িতে আসলেই ঘুম বেড়ে যায় চৈতালির। ভাগ্যিস মা-বাবা এখনো আছেন বিশেষ করে ...
কেউ অস্বীকার করতে পারবেন না, এই করোনাকালে আমাদের অপ্রাপ্তি থেকে প্রাপ্তির ভাণ্ডার হাজার গুণে পূর্ণ। আজ থেকে চার মাস আগে আমরা যে ঘোড়দৌড়ে ব্যস্ত ছিলাম, সারাদিনের ক্লান্তির পর নির্বাক কর্মহীন রাত্রি গুলো আমাদের যেভাবে কাটতো, করোনা তার মধ্যে এক অদ্ভুত নতুন ধরণের বিরামচিহ্ন এঁকে দিল।  আমরা তো জানতামই না, আমরা সুরে বেসুরে গান গেয়েও মানুষের মন জয় করতে পারি, ভুলভাল ছন্দহীন কবিতা লিখতে পারি, জানতামই না ফেসবুকে লেখা গল্প দিয়ে ছোটো পত্রিকায় ডাক পেতে পারি। কিংবা ঘন্টার পর ঘন্টা জ্ঞানগর্ভ ফেসবুক লাইভ শুনে সন্ধেটা পার করে দিতে পারি।  আমরা তো এতোদিন বৃষ্টি ভিজতে ভুলেছিলাম,, দুপুরবেলা শুয়ে শুয়ে বই পড়তে ভুলেছিলাম। দুটো কাঁটা নিয়ে উল বুনতে ভুলেছিলাম। ভুলেছিলাম মা কে দুবেলা ফোন দিতে। কিংবা ছেলেকে চাঁদ দেখানোর সময় ছিলো না এতোদিন। আমাদের এতোদিনের 'সময় নেই, সময় নেই' অভিযোগ আজ মুখ লুকিয়েছে করোনার বুকে।  আমরা কি এটাও জানতাম যে সকাল ন'টায় বেরিয়ে রাতে ফেরা আমাদের বরগুলো সারাদিন ঘরেই শুয়ে বসে কাটিয়ে দিতে পারে? তারপর হঠাৎ একদিন বলে উঠতে পারে 'আজ তুমি সরো, আমি রান্না করবো'। সে...