কেউ অস্বীকার করতে পারবেন না, এই করোনাকালে আমাদের অপ্রাপ্তি থেকে প্রাপ্তির ভাণ্ডার হাজার গুণে পূর্ণ। আজ থেকে চার মাস আগে আমরা যে ঘোড়দৌড়ে ব্যস্ত ছিলাম, সারাদিনের ক্লান্তির পর নির্বাক কর্মহীন রাত্রি গুলো আমাদের যেভাবে কাটতো, করোনা তার মধ্যে এক অদ্ভুত নতুন ধরণের বিরামচিহ্ন এঁকে দিল।
আমরা তো জানতামই না, আমরা সুরে বেসুরে গান গেয়েও মানুষের মন জয় করতে পারি, ভুলভাল ছন্দহীন কবিতা লিখতে পারি, জানতামই না ফেসবুকে লেখা গল্প দিয়ে ছোটো পত্রিকায় ডাক পেতে পারি। কিংবা ঘন্টার পর ঘন্টা জ্ঞানগর্ভ ফেসবুক লাইভ শুনে সন্ধেটা পার করে দিতে পারি।
আমরা তো এতোদিন বৃষ্টি ভিজতে ভুলেছিলাম,, দুপুরবেলা শুয়ে শুয়ে বই পড়তে ভুলেছিলাম। দুটো কাঁটা নিয়ে উল বুনতে ভুলেছিলাম। ভুলেছিলাম মা কে দুবেলা ফোন দিতে। কিংবা ছেলেকে চাঁদ দেখানোর সময় ছিলো না এতোদিন। আমাদের এতোদিনের 'সময় নেই, সময় নেই' অভিযোগ আজ মুখ লুকিয়েছে করোনার বুকে।
আমরা কি এটাও জানতাম যে সকাল ন'টায় বেরিয়ে রাতে ফেরা আমাদের বরগুলো সারাদিন ঘরেই শুয়ে বসে কাটিয়ে দিতে পারে? তারপর হঠাৎ একদিন বলে উঠতে পারে 'আজ তুমি সরো, আমি রান্না করবো'। সে রান্নাটুকু কবিতার ছন্দের মতোই নাহয় ভুলভাল হলো, তাতে তো ক্ষতি নেই।
আর আমরা চাকুরি করা বা না করা মেয়েরা গৃহসহায়িকা ছাড়াই ব্রেকফাস্ট থেকে ডিনার অব্দি হাসিমুখে সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনা করতে পারি। জন্মদিনের কেক ঘরে বানিয়ে ছেলেকে চমকে দিতে পারি। এরপর সন্ধেবেলা হারমনিয়াম কিংবা কবিতার খাতা খুলে বসতে পারি। এটাই বা কে কবে জানতো।
করোনা আমাদের অনেকটাই পিছু ফিরতে শিখিয়েছে। সেই জীবন টা বাঁচতে শিখিয়েছে যে জীবন টা শুধু নিজের জন্য বাঁচা নয়, অন্যদেরকে নিয়ে বাঁচা। এই থমকে যাওয়া জীবনে আমরা একে অন্যকে যতোটা জানতে পারছি, আগে হয়তো পারিনি। হোক না সুর বেসুরো, কবিতা ছন্দহীন। শেষে এটুকুই বলবো
আগে বুঝি জানতেম, ডানা ছাড়াই আকাশে ভেসে থাকা যায়!
@মধুমিতা সেনগুপ্ত
৫-৭-২০২০
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন