#সালতামামি#


অনেকেই অভিযোগ করে থাকেন,'ছোটোরা আর বড়োদের আজকাল সম্মান করছে না । কিংবা দেখলে উঠে দাঁড়াচ্ছে না। হাসি বিনিময় অব্দি করছে না । কোথাও দেখা হলে চেয়ার ছেড়ে বসতে দিচ্ছে না ।এই প্রজন্মটাই বড়োদের রেস্পেক্ট দিতে জানে না'। 

                    বলি Respect দিতে জানাটা 'In Born' কোনো কোয়ালিটি নয়। ওটা শিখে নিতে হয়। এছাড়া এটা কোনো উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া চরিত্রগুণও নয়। বাড়িতে যদি বড়োদের তাঁদের বড়োদের সম্মান করতে দেখি, তবেই আমরা কিছুটা হলেও এই গুণটি গ্রহণ করতে শিখি। বাকিটা বোধ-বুদ্ধি হবার পর নিজস্ব বিচারে যাঁকে সম্মান করতে ইচ্ছা হয়,তাঁকেই সম্মান করি। ভালোবাসার মতো সম্মানও একটি অর্জিত বস্তু। বড়োদের সম্মান করা বলতে আসলে কী বুঝি? শুধুমাত্র বয়সে কয়েকবছর পরে আসার গুণেই বুঝি বড়োদের সম্মান করা বাধ্যতামূলক? তা নয়।  'সম্মান', 'ভালোবাসা', 'শ্রদ্ধা', এই শব্দগুলো আসলে  পারস্পরিক গুণে টিকে থাকা শব্দ। এ ছাড়া যে কোন সম্পর্ককে দীর্ঘমেয়াদি টিকিয়ে রাখার একটাই মন্ত্র সম্পর্কের মধ্যে অনেকটা বাতাস ভরে দেওয়া। ছোট-বড় সম্পর্ক মানে এই নয় যে, বড়োরা যা বলবে ছোটরা তার অক্ষরে অক্ষরে পালন করবে। বক্তব্য যথাযথ না হলে ছোটোরা তা খন্ডন করতেই পারে। বড়োদের তা গ্রহণ করার উদারতাটুকু থাকতে হবে। 

‌            যারা বলছেন, ছোটোরা আর সম্মান করা ছেড়ে দিয়েছে, তারা ছোটোদের কাছে টানার জন্য কতটা ত্যাগ স্বীকার করছেন? তারা কি একবার ছোটো বলে তাদের ক্ষমা করতে পারেন? তারা কি পারেন, ছোটোর কোনো কৃতিত্বে তাকে প্রশংসায় ভরিয়ে দিতে? একসাথে কোথাও গেলে গাড়িভাড়া কিংবা খাওয়াদাওয়ার ন্যুনতম বিলটুকু মিটিয়ে দেবার চেষ্টা করেন, নাকি ছোটোদের সাথেও সমানভাবে ভাগ করে নেন সবকিছু? আড়ালে বসে ছোটোর নিন্দে করা ,,কিংবা ছোটকে একাসনে বসিয়ে সবকিছুতেই তাকে একজন প্রতিযোগী ভেবে চলা বড়োরা কীভাবে ভাবেন, তারা বড়ো হয়েছেন? বয়স বাড়লেই কি সবাই বড়ো হতে পারে মশাই? বড়ো হতে গেলে বড়োত্ব শিখতে হয়। কর্তব্য করে কর্তৃত্ব ফলাতে হয়। আর অনেকটা সহ্য করতে হয়। কখনো কখনো অপমানও সইতে হয়। ছোটো ভেবে ক্ষমা করতে হয়। হাত ধরে টেনে আনতে হয়, আলোয়। নাকি নতুন আলোয় নিজের অস্তিত্ব সংকটের শঙ্কা, এক আশ্চর্য ব্যবধান তৈরি করে পরস্পরের মধ্যে। নতুন কিছু, যদি পুরনো কিছুকে ম্লান করে দিতে চায় তবে সে এমনি দেবে, কেউ আলোয় টেনে আনুক কিংবা না আনুক। সংকট তৈরি হচ্ছে দু তরফেই । বড়োরা যেমন প্রাপ্য সম্মান থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন,তেমনি ছোটোরাও সম্মান করার, শ্রদ্ধা করার কোনো বটগাছ আর খুঁজে পাচ্ছে না। । প্রতিনিয়ত তাদের সামনে স্বার্থান্বেষী ,অহংকারী আত্মকেন্দ্রিক, নীতিহীন ,অনুদার, মিথ্যে অস্তিত্বভয়ে ভীত,  বয়সে কিছুটা বড়ো উদাহরণরা সম্মান আশা করে থাকেন। কিছু হলেই সম্মান গেল গেল করেন।বাড়িতে নতুন কোনো ছোটো অতিথি এলে বড়োদের বুঝি বলতে হয়, অনেক তো হলো এবার বরং ছোটোরা কাজ করুক। আমরা তো অনেক করলাম, এবার অবসর নেই। এটাই নাকি ট্রেণ্ড। কেননা তাঁর বড়োরা তাঁর সাথেও এমনটাই করেছিলেন। বলি, তবে এই ট্রেণ্ড অনুযায়ী পারস্পরিক শ্রদ্ধা-ভালোবাসা গুলোও একে একে কর্পুরের মতো উবে যাচ্ছে। সুকান্তের সেই 'এসেছে নতুন শিশু, ছেড়ে দিতে হবে স্থান' মনে পড়ে? কজন আমরা ছেড়ে দিচ্ছি স্থান? কতটা ত্যাগ করলে, কতটা সংযমী হলে, কতটা উদার হলে আমরা 'বড়ো' হতে পারি তার মাপটাই বা আমরা কজন বুঝি?? 

✍️ মধুমিতা সেনগুপ্ত

১১-১২-২২

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

অণুগল্প

কথা